কচুয়া প্রতিদিন ডেস্ক।। 

বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘শিববাড়ি মন্দির (কালিবাড়ি ও মঘিয়া মন্দির)’ এলাকাকে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ১৯৬৮ সালের (সংশোধিত, ১৯৭৬) প্রত্নসম্পদ আইনের ১০ ধারার (১) উপধারার ক্ষমতাবলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়।

​গত ৩০ জুন ২০২৬ (১৬ আষাঢ় ১৪৩৩) তারিখে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

​মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটির মোট ১.৬৬ একর জমিকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

​ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, বিআরএস ২৪৯ নম্বর খতিয়ানের ৭৩১, ৭৩২, ৭৩৩, ৭৩৪, ৭৩৫, ৭৪৬ এবং ৭৪৭ নম্বর দাগের মোট ১.৬৬ একর জমি ‘বারোয়ারী কালী মন্দির কমিটি’র পক্ষে সেবাইত শংকর ভট্টাচার্য (পিতা: অমূল্য কুমার ভট্টাচার্য)-এর নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে এটি মন্দিরের দখলেই রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই প্রত্নসম্পদের মালিকানা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

​তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত এই প্রত্নসম্পদ এলাকার পূর্বে মোঃ সাফায়াত হোসেনের জমি, পশ্চিমে কচুয়া-দেপাড়া পাকা সড়ক, উত্তরে মোঃ কামরুল ইসলাম শেখের জমি এবং দক্ষিণে আবুল হোসেন হাজরার জমি রয়েছে।

​রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনের ফলে এখন থেকে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার এবং সুরক্ষার সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

স্থানীয় সচেতন মহল ও মন্দির কমিটির সভাপতি নিত্য রঞ্জন ঘোষ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।