ছোট গল্প কন্ট্রোলরুমের শেষ সংকেত

✒✏দুপুর ১২টা বেজে ২৮ মিনিট।


একটি ট্রেন তখন ঘন্টাম ১২০ কিঃমি. বেগে ছুটছে। গ্রামের মধ্যে দিয়ে। ট্রেনের বগিগুলোতে গমগম করছে ১০০০০ যাত্রী, ট্রেনের নিরাপত্তাব জন্য রয়েছে ধাতব অবয়ব- এ আই। হঠাৎ সব ইমার ইমার্জেন্সি লাইটগুলো জলে উঠল। ট্রেনের ভেতর কোনো এক ২টি দুষ্টু লোক পালানোর চেষ্টা করছে। আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি বোমা ফাঁটার যে গ্রামের মধ্যে দিয়ে তার যাচ্ছিল সেটা ছিল মরুভূমির মতো গাছপালা আছে কিন্তু শুকিয়ে কাঠ। ওই গ্রামেই বাস কবে ১০ হাজার মানুষ। বিস্ফোরণ ঘটলে ট্রেনের ১০ হাজার মানুষের সাথে গ্রামের মানুষেরাও মারা পড়বে। এই মহাবিপদ দেখে এ আই এর রোবোটিক ব্রেন জ্যাম হয়ে গেল। সে মহাবোকার মতো ভাবল, তাকে বুঝি এখন ট্রেনের মেঝেতে শুয়ে নিজের শরীর দিয়ে বোমা দুইটি চেপে ধরে আত্মত্যাগ করতে হবে। ঠিক তখনই একটি বৃদ্ধ লোক এসে দাড়াল এআই এর সামনে। তিনি কাঁপা গলায় বললেন, 'বাবারে! আমি সেই বোমা রাখা লোককে দেখেছি।

কিছু একটা কর বাবা, ১০ হাজার মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে। এআই বলল, আপনি নিরাপদ

আশ্রয়ে যান। বৃদ্ধ লোকটি বল্লেন আমি কোথায় যাব? এই দুনিয়ায় আমার কেউ নেই। মা-বাবা বহু আগে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। ছোট ভাইকে নিয়ে ছিলাম। কিন্তু ২০ বছর আগে এই ট্রেনে এক ভয়ঙ্কর ভিড়ের মধ্যে তাকে হারিয়ে ফেলি। আমি তাকে এখনও পাইনি। আমি চাই না আজ এত মানুষের প্রানহানী হোক, তাই আমি তোমাকে সাহায্য করব। আর মাত্র ৭ মিনিট বাকি। পাশেই এক ষষ্ঠ শ্রেনির কিশোর দেখছিল। সে এ আই এর কাছে এসে বলল, আরে গাধা এআই! তুমি তো বড্ড গাঁধা! তোমার তো অনেক বুদ্ধি, তাহলে তুমি বোকামি করছ কেন! লাল বা নীল তারটি কেটে বোমটি ডিফিউজ করো। সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে দুষ্টু লোকটিকে লক করতে বলল। এ কথা শুনে এ আই এর বোকা ব্রেনটা এক ঝটকায় লড়ে গেল। সে লোকটিকে ধরল ও বোমা ডিফিউজ করে সবার প্রাণ রক্ষা করল। অবশেষে সরকার সেই ছোট কিশোর ও সেই বৃদ্ধকে সম্মান জানাল। শেষে এআই তার নোটবুকে লিখল এ আই কখনো মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হতে পারে না।


লেখক: হাছিবুর রহমান

পিতা-কামরুল হাসান

শ্রেনীঃ ৬ষ্ট 

মোবাইদুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

কচুয়া,বাগেরহাট